sahri & iftar time

তারাবির নামাজ কত রাকাত

Tarawee 8/20 Rakat

তারাবীর নামায হানাফী জজদের আদালতে ২০/৮?

মুসলেহুদ্দীন মাযহারী
তারাবি নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে হানাফি ও আহলে হাদিসদের মধ্যে চিরাচরিত দ্বন্দ্ব পরিলক্ষিত হয়। তাই এই কেসটা বা মামলাটা হানাফী জজদের বা বিদ্বানদের আদালতে উপস্থাপন করলাম। দেখা যাক কী রায় আসে।
১) হানাফিদের প্রথম জজ বা ফাক্বীহ তার উপর অধিকাংশ হানাফীর প্রাসাদ প্রতিষ্ঠিত।তিনি তার স্বীয় গ্রন্থ মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মদ গ্রন্থের ৯৩ পৃষ্ঠায় অধ্যায় রচনা করেছেন।এই অধ্যায়ে বুখারী মুসলিমের হাদীস আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত ১১ রাকআতের হাদিস সংকলন করে রায় শোনাচ্ছেন।
وبهذا ناخذ كله
আমাদেরও বিতরসহ ১১ রাকআতের উপর আমল আছে।প্রকাশ থাকে যে এই হাদিসকে যারা তাহাজ্জুদের সঙ্গে নির্দিষ্ট করছে তারা ইমাম মুহাম্মদের চরম বিরোধী এবং এই রায়ের প্রত্যাখ্যানকারী। বলা বাহুল্য যে তিনি রায় দিয়েছেন দলিল ভিত্তিক বা দলিল কে সামনে রেখে।এখন কেউ যদি দলিল ছাড়া কুড়ি রাকআতের রায় দেয় তবে সেই রায় অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

২) এবারে দ্বিতীয় জজের রায় শুনুন,
ইমাম ইবনু নাজিম হানাফী নু'মানী মৃত ৯৭০।
তিনি রায় দিচ্ছেন
وقد ثبت أن ذالك كان احدي عشرة ركعة بالوتر كما ثبت في الصحيحين من حديث عائشة رضي الله عنها فإذن يكون المسنون على أصول مشائخنا ثمانية منها والمستحب اثنا عشر( البحر الرائق ٢/٦٦-٦٧).
অর্থাৎ:- এই মাসআলাতে বিতরসহ ১১ রাকআত তারাবীহ প্রমাণিত।যেমনটি সাব্যস্ত হয়েছে আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা এর হাদীস সহীহায়ন বা বুখারী মুসলিম আর আমাদের মাশায়েখদের আক্বীদা বা মূলনীতি অনুযায়ী ৮ রাকআত সুন্নাত এবং ১২ রাকআত মুস্তাহাব( আল বাহরুর রায়েক দ্বিতীয় খন্ড ৬৬ পৃষ্ঠা)।

৩) তৃতীয় নাম্বার জজ মিরকাত প্রণেতা মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী ( মৃত ১৪১০ হিঃ)
তিনি রায় দিচ্ছেন,
إن التراويح في الأصل احدي عشرة ركعة بالوتر في جماعة فعله رسول الله صلى الله عليه وسلم( مرقاة شرح مشكاة ٣/٣٨٢).
আসলে তারাবীহ হলো বিতরসহ ১১ রাকআত। যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাম জামা'আতে করেছিলেন ( মিরকাত শরহে মিশকাত ২/৩৮২)।

৪) চতুর্থ নম্বর জজ ইমাম ইবনুল হুমাম হানাফী বলেন,
فتحصل من هذا كله أن قيام رمضان سنة إحدى عشرة ركعة بالوتر في جماعة فعله صلى الله عليه وسلم( فتح القدير شرح الهداية ١/٤٦٨).
তারাবীহ সংক্রান্ত মুকাদ্দামা সার হল, নিশ্চয় কিয়ামে রামাযান বা তারাবীহ বিতর সহ ১১ রাকআত সুন্নাত। যেটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামায়াতে পড়িয়েছেন বা করেছেন (ফাতহুল কাদীর শারহুল হিদায়াহ ১/৪৬২)।

৫) পঞ্চম নম্বর জজের রায় শুনুন, আবুল আখলাস আল হাসনুবনু আম্মার ( মৃত ১০৬৯)। বলেন,
لما ثبت أنه صلى بالجماعة احدى عشره ركعة بالوتر
যখন এটাই প্রমাণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামায়াতে বিতরসহ ১১ রাকআতই পড়েছেন( মুরাক্বী আল ফাল্লাহ ৪০৪)।

৭) ষষ্ঠ নাম্বার জজ খলিল আহমদ সাহারানপুরী দেওবন্দী বলেন,তারাবি ৮ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ঐক্যমতে যদি মতানৈক্য থাকে তো ১২ তে( বারাহীনুল ক্বারী ১/৪০২)।
তিনি রায়ে আরও বলেন,
فنحصل من هذا كله أن قيام رمضان سنة إحدى عشرة ركعة بالوتر فعله صلى الله عليه وسلم ( حاشية على صحيح البخاري ١/١٥٤).
এই রায়ের উপসংহার বা সার হলো, নিশ্চয় তারাবির নামায বিতরসহ ১১ রাকআত সুন্নাত। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন( ইরশাদুল ক্বারী প্রথম খন্ড ৪০২ পৃষ্ঠা)।
এই জজের সমর্থন করেছেন ত্বহাবী হানাফী,( রাদ্দুল মুহতার ২৯৬ পৃষ্ঠা)।
মৌলভী আবুস সঊদ হানাফী( শারহে কানয ৫৬৫ পৃষ্ঠা) প্রমূখ জজগণ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ২০ কুড়ি রাকাত নয় বরং ৮ আট রাকআতই পড়েছেন।

৭) সপ্তম নাম্বার জজ আইনী হানাফী অসাধারণ রায় দিয়েছেন,
তিনি বলেন,
فإن قلت لم يبين في الروايات المذكورة عدد الصلاة التي صلها رسول الله صلى الله عليه وسلم في تلك الليالي ،قلت رواه ابن خزيمة وابن حبان من حديث جابر قال صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان ثمان ركعات ثم اوتر ( عمدة القاري شرح صحيح البخاري ٣/٥٩٧).
যদি তুমি অভিযোগ করো বা বলো যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাযানের রাত্রি গুলিতে ( তিন রাত) তারাবীর নামায পড়িয়েছেন কিন্তু তার সংখ্যা কত রাকাত স্পষ্ট নেই বা বর্ণিত নেই ।
তাহলে আমি বলব, যা বর্ণনা করেছেন ইবনে খুযায়মাহ ও সহীহ ইবনে হিব্বান জাবির রাযিআল্লাহু আনহু এর হাদিস। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানে আমাদেরকে ৮ রাকআত (তারাবীহ) এবং বিতর পড়িয়েছেন ( উমদাতুল কারী ৩/৫৯৭)।
প্রকাশ থাকে যে, এই রায়ের বিরোধীতা হলো হাদিসের বিরোধিতা।
এই রায়ের সমর্থনে যায়লাঈ হানাফী নাসবুর রায়াতে জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীসকে সংকলন করেছেন( ১/২৯৩)।

৮) অষ্টম নম্বর জজ হানাফীদের শিরোমণি আনোয়ার শাহ কাশ্মিরীর রায় শুনুন,
এই রায়ের জবাবে সমস্ত দেওবন্দী কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
তিনি বলেন,
لا مناص من تسليم أن تراويحه عليه الصلاة والسلام كانت ثمانية ركعات ( العرف الشذي ١/١٧٧).
এটা না মেনে কোন গতি বা উপায় নেই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তারাবীহ ৮ রাকআতই ছিল( আল আরফুশ শাযী ১/১৭৭)।
আছেন কোন মুকাল্লিদ এই রায়ের বিরোধিতা করবেন বা জবাব দেবেন?

৯) তাবলীগ জামায়াতের প্রসিদ্ধ সুফি জাকারিয়া তাবলীগী দেওবন্দী অসাধারণ রায় দিয়েছেন।
তিনি বলেন,
لا شك في أن تحديد التراويح في عشرين ركعة لم يثبت مرفوعاً عن النبي صلى الله عليه وسلم بطريق صحيح على أصول المحدثين وما ورد فيه من رواية إبن عباس متكلم فيها على أصولهم ( أوجز المسالك شرح مؤطا إمام مالك ٢/٣٠٤).
এতে কোনো সংশয় নেই যে, বিদ্বানদের মূলনীতি অনুযায়ী কুড়ি রাকআত তারাবীহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত নয়। বরং ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত বর্ণনা ( জাল) বা মাজরুহ ও অপ্রামান্য( আওজাযুল মাসালিক শারাহ মুআত্তা মালিক ২/৩০৪)।

১০) আহমাদ ইয়ার নায়ীমী বেরেলী হানাফী," জাআল হক্ব" গ্ৰন্থে মাদারিজুন নাবুয়্যাহ ১/৪০০ এর উদ্ধৃতিতে মুলভী আব্দুল হক্ব দেহলবী হানাফীর উক্তি নকল করেছেন যে, তিনি ৮ রাকআত তারাবীহ কে সুন্নাত বলেছেন।
তিনি বলেন,
তাহক্বীক হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানে ওই ১১ রাকআতই পড়তেন। যা তিনি সাধারণত সর্বাবস্থায় তাহাজ্জুদ নামাজে পড়তেন।
তিনি আরো বলেন,সঠিক রায় হলো আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা এর বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামায এগারো রাকআত ছিল। যেমনটি তার কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ নামাযে অভ্যস্ত ছিলেন ( মা সাবাতা বিস সুন্নাহ ২১৭ পৃষ্ঠা)।

১১) এগারো নাম্বার জজ কাসেম নানুতবী দেওবন্দী হানাফী বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১১ রাকআত বিতর সহ পড়েছেন, এটা কুড়ি রাকআতের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য ( লাতায়েফে ক্বাসিমিয়্যাহ ১৮)।

১২) এবারে এমন একজন জজের রায়ে শোনাবো সমস্ত হানাফিদের নির্বাক করে দিয়েছেন তিনি। তিনি এমন রায় দেবেন আদৌ হানাফিরা কল্পনাও করেনি। সেই জজের নাম হলো রশিদ আহমদ গাংগুহী। কাসেম নানুতবীর কথা লিখেছেন,
কোন বিদ্বান এর নিকট এ কথা গোপন নেই যে,কিয়ামে রামাযান (তারাবীহ)এবং কিয়ামুল্লাইল একই নামায।রামাযানে মুসলিমদের সুবিধার্থে প্রথম রাত্রে নির্ধারিত ।
শেষে বুখারী মুসলিমের ১১ রাকআত প্রমাণিত বলে রায় শোনান ( আল হাক্বুস সারীহ ফী ইসবাতিত তারাবীহ ফারসী ১ পৃষ্ঠা)।

১৩) জামায়াতে ইসলামী আবুল আলা মওদুদী হানাফির রায় শুনুন:-
তিনি বলেন,
কুড়ি রাকআত তারাবীহ ৮ রাকআতের তুলনায় যঈফ( রাসায়েল ও মাসায়েল ২/১৬৭)।
এটাই সমর্থন করে মুফতি কেফায়াতুল্লাহ হানাফী দেওবন্দী বলেন অধিকাংশ বর্ণনাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ৮ রাকআত তারাবীহ পড়া প্রমাণিত( কিফায়াতুল মুফতী ৩/৩৬৩)।

১৪) ক্বাজী শামসুদ্দীন দেওবন্দী বিস্তারিত আলোচনার পর রায় দিচ্ছেন, ৮ রাকআতই হল সুন্নাত( আল ক্বাওলুল ফাসীহ ৫ পৃষ্ঠা)।

১৫) একসাথে চারজনের বেঞ্চ সমস্বরে চারজন জজ রায় দিয়ে উঠছেন, তাঁরা হলেন ইমাম যায়লাঈ হানাফী ( নাসবুর রায়াহ ২/১৫২)।
ইবনুল হুমাম হানাফী ( ফাতহুল কাদীর ১/৪৬৭)।
ইবনু আবিদীন হানাফী ( মানহাজুল খালিক্ব আলাল বাহরির রায়িক্ব ২/৬৬)।
মুল্লা আলী ক্বারী হানাফী ( মিরক্বাত ৩/৩৮২)।
وهذا معلول بأبي شيبة إبراهيم بن عثمان وهو متفق على ضعفه ثم أنه مخالف للحديث الصحيح
এটা বুখারী বর্ণিত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা এর বিতরসহ এগারো রাকআত সহীহ হাদীস বিরোধী হওয়ার সাথে সাথে যঈফ ।এর যঈফ (২০) অর্থাৎ কুড়ি রাকআত এর হাদীস সর্বসম্মতিক্রমে যঈফ।
কারণ আবু শাইবা ইব্রাহিম বিন ওসমান দুর্বল সকল বিদ্বানদের ঐক্যমতে।
প্রকাশ থাকে যে,যারা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা এর হাদীসকে শুধু তাহাজ্জুদ বলে ফতোয়াবাজি করেন তারা এই রায়ের বিরোধী এবং তারা জাহিল।হয় তারা এই রায়কে মেনে নিক নতুবা তাঁরা এই রায়কে ভুল প্রমাণ করুক।

১৬) আহমাদ ত্বহতাবী হানাফী (মৃত ১২৩৩ হিজরী) বলেন,
لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يصلها عشرين،بل ثماني( حاشية الطحطابي على الدر المختار ١/٢٩٥).
কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুড়ি রাকআত পড়েননি বরং তিনি ৮ রাকআত পড়েছেন( হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ দুর্রিল মুখতার ১/২৯৫)।

১৭) প্রধান বিচারপতির রায় শুনুন। লেখনীর কলেবর বৃদ্ধি না করে সংক্ষিপ্ত পরিসরে সমাপ্ত করতে চাচ্ছি। কারণ প্রধান বিচারপতির রায় চলে এসেছে। এই রায় শোনামাত্র মুকাল্লিদরা নির্বাক ও হতভম্ব হয়ে যাবে। তাঁরা জানেন প্রধান বিচারপতির নাম কিন্তু এই রায় সম্পর্কে অবগত নন। এবার আসুন সেই বিচারপতির নাম জেনে নিন।
তিনি হলেন গায়ের মুকাল্লিদ ইমাম আবু হানিফার প্রধান শিষ্য আবু ইউসুফ। তিনি তাঁর গ্রন্থ ( আল আসার ১/৩৪ হাদীস নং ১৭০)।
আবু হানিফার সাথে একটি হাদিস নিয়ে এসেছেন।
তা হলো:-
يوسف عن أبيه عن أبي حنيفة عن أبي جعفر محمد بن علي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه { كان يصلي بعد العشاء الآخرة الى الفجر فيما بين ذالك ثماني ركعات ويوتر بثلاث ويصلى ركعتي الفجر( الآثار لابئ يوسف ١/٣٤ رقم الحديث ١٧٠).
আবু হানীফা তাঁর শিক্ষক আবু জাফর থেকে বর্ণনা করেন, মুহাম্মদ বিন আলী নবী সাঃ থেকে।
তিনি বলেন, নিশ্চয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার পর থেকে ফজর পর্যন্ত এর মধ্যে ৮ রাকআত তারাবীহ তিন রাকআত ও বিতর ফজরের দুই রাকাত পড়তেন( আল আসার লিআবী ইউসুফ ১/৩৪ হাদীস নং ১৭০)।
আলহামদুলিল্লাহ গায়ের মুকাল্লিদ আবু হানিফার রায় গায়ের মুকাল্লিদদের স্বপক্ষেই হয়েছে।এখানে মুকাল্লিদরা যেন না বলে বসেন যে আবু হানিফা গায়ের মুকাল্লিদ ছিলেন তাই গায়ের মুকাল্লিদদের স্বপক্ষে রায় দিয়েছেন।
প্রকাশ থাকে যে মুকাল্লিদরা অভিযোগ করতে পারে যে, এটা তাহাজ্জুদের সাথে সম্পর্কিত। এই দাবী হলো ভিত্তিহীন। কারণ এর পক্ষে তাদের কাছে কোন দলিল নেই। আমার এই লেখনীর সারমর্ম হল,
১) আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার বর্ণিত হাদীসকে তারাবির অধ্যায়ে ইমাম মুহাম্মদ সহ অন্যান্য মুহাদ্দিসীনে কিরাম বর্ণনা করেছেন।
২) জাবের রাযিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণনাকৃত হাদীস থেকে ৮ রাকআত তারাবীহ হানাফী বিদ্বান দলিল হিসেবে পেশ করেছেন।
৩) ৮ রাকআত তারাবীহ সুন্নত।
৪) কুড়ি রাকাআত তারাবীর হাদীস প্রমাণিত নয়।
৫) তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই সালাত।
৬) যারা কুড়ি রাকআত তারাবীহ পড়েন তারা সুন্নত বিরোধী ও আবু হানিফাসহ সকল মুহাদ্দিস বিরোধী।
মা আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি।
৭) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ৮ রাকআত তারাবীহ পড়া সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
৮) নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কুড়ি রাকআত তারাবীহ পড়েন নি।
৯) তারাবীহ কুড়ি রাকাআতের ইজমা দাবি করা ভিত্তিহীন। কারণ অধিকাংশ হানাফি বিদ্বানগণ আট রাকআত তারাবীর রায় দিয়ে ইজমাকে নস্যাত করে দিয়েছেন।
১০) এই লেখনী থেকে প্রমাণিত হলো, ইস ঘার কো আগ লাগগায়ী ঘর কি চেরাগ সে।
এই ঘরে আগুন লেগেছে এই ঘরেরই প্রদীপ।
আল্লাহ্ তাআলা আমাদের সূমতি দিন।
সহীহ হাদীস অনুযায়ী এই রায়ের সম্মান করা মানেই হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের সম্মান করা।
এই সমস্ত হানাফী বিদ্বানদের জন্য দুআ করি হে আল্লাহ্ তাঁদের সকলকেই জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন।
আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url