ফাতওয়া
সংযোজন করেছেন, মহম্মদ হোসেন
ফাতওয়া কাকে বলে?
দ্বীন ইসলামের কোন বিধানের ক্বুর'আন ও হাদীসে সরাসরি সমাধান না পাওয়া গেলে, সেই সম্পর্কে কোন বিজ্ঞ আলেমে জিজ্ঞাসা করা হলে সে আলেম প্রশ্নকারীকে যে উত্তরটা দেয় তাকে ফাতওয়া বলে। যিনি ফাতওয়া দেন তাকে মুফতি বলে।ফাতওয়া শব্দের অর্থ
ফাতওয়া শব্দের অর্থঃ রায়, অভিমত, মতামত, সিদ্ধান্ত, পরামর্শ ইত্যাদি।ফাতওয়া দেয়ার যোগ্যতা বা ফাতওয়া কারা দিতে পারবে?
কোনো সাধারণ আলেম ফাতওয়া দিতে পারেনা। শুধুমাত্র মুফতী বা শরীয়তের বিশেষজ্ঞরাই ফাতওয়া দিতে পারবে। ফাতওয়া দানকারীদের যোগ্যতা ও গুণাগুণ নিম্নরূপঃ১ মুফতীকে মুসলিম হতে হবে।
২ বিবেক-বুদ্ধি।
৩ বালেগ হতে হবে।
৪ মুফতীকে ন্যায়পরায়ণ, সুবিচারক এবং পুণ্যবান হতে হবে।
৫ ফতোয়া প্রদানকারীকে খুব সচেতন ও বিচক্ষণ হতে হবে।
৬ মুফতীর এমন যোগ্যতা থাকতে হবে যাতে তিনি অতীত ও বর্তমান লিখিত দ্বীনি কিতাবসমূহ বুঝতে পারেন এবং এর থেকে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে ফাতওয়া প্রদানে সক্ষম হন।
৭ সমকালীন বিষয়য়াদী সম্পর্কে জ্ঞান রাখা।
এই ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেনঃ
فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ তোমরা যদি না জানো তাহলে তা কোরআন হাদিসের জ্ঞানীদের কে জিজ্ঞাসা কর লিখিত প্রমাণ সহ।
(সূরা নাহাল, আয়াতে ৪৩ ও ৪৪)
এই আয়াত দুটি থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা গেল যে ব্যক্তির ক্বুর'আন ও হাদীসের জ্ঞান রয়েছে সে ফতওয়া দিতে পারে এবং মানুষও তাঁর নিকট ফতওয়া জিজ্ঞেস করতে পারে। তবে সে ফতওয়া হতে হবে ক্বুর'আন ও হাদীসের ইবারাত সহকারে।
আমাদের সমাজে সধারন আলেম, দাঈ বা ইসলামের বিশেষজ্ঞ নন তাদের নিকট ফতওয়া জিজ্ঞেস করা হয়। আর উপাধিধারী ও লম্বা পোশাক পরিহিত ব্যক্তিরা জনগণকে ওই জিজ্ঞাসার জবাব দেয় গোলমেলে ভাবে। কেননা তাদের মধ্যে এমন অনেকে আছে যাদের ক্বুর'আন ও হাদীসের কোন জ্ঞান নেই। কারণ তারা ক্বুর'আন ও হাদীসের চেয়ে নিজেদের বানোয়াট মাযহাবেকে বেশি প্রাধান্য দেয় যার জন্য জিজ্ঞাসা ও জবাব এর মাধ্যমে তারা ইসলামের নামে অনেক ভুল তথ্য মুসলিম সমাজে ছড়িয়েছে এবং ছড়াচ্ছে। যার ফলে অনেক সময় ভুল কে সঠিক, আর সঠিক ভুল তৈরি করা হয়। হালালকে হারাম ও হারামকে হালাল মনে করা হয়। কোন প্রশ্নকারী ক্বুর'আন ও হাদীসের দলিল ভিত্তিক জবাব চান না এই সুযোগে অধিকাংশ ফতোয়া দিয়ে থাকেন। প্রশ্নকারী ফাতওয়া পাওয়ার ব্যাপারে ক্বুর'আন ও হাদীসের দলিল চাই না তাই ওই ভন্ডরা তা দিতে বাধ্য হন না। ফলে তারা নিজেরা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল পথে চলে এবং জনগণকে ভুল পথে চালিত করে। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ ইসলামের কোন আলেম অবশিষ্ট থাকবে না তখন লোকেরা মূর্খদের কে নেতা বানিয়ে নেবে তাদের কিছু জিজ্ঞেস করা হলে, না জানলেও ফতোয়া প্রদান করবে। ফলে তারা নিজেরা পথভ্রষ্ট হবে, এবং অন্যকে কষ্ট করবে।
(সহীহ বুখারী হাদীস নাম্বার ১০০, সহীহ মুসলিম হাদীস নাম্বার ২৬৭৩)
আর ওই উপাধিধারী মুক্তি দের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা সঠিক বিষয়টা জানলেও নিজেদের বানোয়াট মাযহাবী সেগুলোর মান মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে তারা সঠিক বিষয়টা মানুষকে বলে না বরং তা মানুষের নিকট গোপন রাখে ওই ধরনের ভন্ড পীর পূজারী মিথ্যাবাদী সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেনঃ
إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَآ أَنزَلَ اللَّهُ مِنَ الْكِتٰبِ وَيَشْتَرُونَ بِهِۦ ثَمَنًا قَلِيلًا ۙ أُولٰٓئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِى بُطُونِهِمْ إِلَّا النَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيٰمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
নিশ্চয় যারা গোপন করে যে কিতাব আল্লাহ নাযিল করেছেন এবং এর বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, তারা শুধু আগুনই তাদের উদরে পুরে। আর আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
(সূরা বাকারা ১৭৪ নম্বর আয়াত)
আর বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি তার জানা ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়েও মানুষের কাছে তা গোপন করে রাখে বিভীষিকাময় কিয়ামতের দিন তার মুখে আগুনে লাগাম পরিয়ে দেওয়া হবে।
(আহমদ, আবু দাউদ-২২৩)
যে ব্যক্তির ক্বুর'আন ও হাদীসের জ্ঞান আছে তাকে দ্বীন ইসলামের মাসআলা-মাসায়েল জিজ্ঞেস করুন দলিল সহকারে। যদি জিজ্ঞাসিত বিষয়টির জ্ঞান থাকে তাহলে সে ওই বিষয়টির ফতওয়া দিতে পারবে এতে কোনো অসুবিধা নেই।
فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ তোমরা যদি না জানো তাহলে তা কোরআন হাদিসের জ্ঞানীদের কে জিজ্ঞাসা কর লিখিত প্রমাণ সহ।
(সূরা নাহাল, আয়াতে ৪৩ ও ৪৪)
এই আয়াত দুটি থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা গেল যে ব্যক্তির ক্বুর'আন ও হাদীসের জ্ঞান রয়েছে সে ফতওয়া দিতে পারে এবং মানুষও তাঁর নিকট ফতওয়া জিজ্ঞেস করতে পারে। তবে সে ফতওয়া হতে হবে ক্বুর'আন ও হাদীসের ইবারাত সহকারে।
আমাদের সমাজে সধারন আলেম, দাঈ বা ইসলামের বিশেষজ্ঞ নন তাদের নিকট ফতওয়া জিজ্ঞেস করা হয়। আর উপাধিধারী ও লম্বা পোশাক পরিহিত ব্যক্তিরা জনগণকে ওই জিজ্ঞাসার জবাব দেয় গোলমেলে ভাবে। কেননা তাদের মধ্যে এমন অনেকে আছে যাদের ক্বুর'আন ও হাদীসের কোন জ্ঞান নেই। কারণ তারা ক্বুর'আন ও হাদীসের চেয়ে নিজেদের বানোয়াট মাযহাবেকে বেশি প্রাধান্য দেয় যার জন্য জিজ্ঞাসা ও জবাব এর মাধ্যমে তারা ইসলামের নামে অনেক ভুল তথ্য মুসলিম সমাজে ছড়িয়েছে এবং ছড়াচ্ছে। যার ফলে অনেক সময় ভুল কে সঠিক, আর সঠিক ভুল তৈরি করা হয়। হালালকে হারাম ও হারামকে হালাল মনে করা হয়। কোন প্রশ্নকারী ক্বুর'আন ও হাদীসের দলিল ভিত্তিক জবাব চান না এই সুযোগে অধিকাংশ ফতোয়া দিয়ে থাকেন। প্রশ্নকারী ফাতওয়া পাওয়ার ব্যাপারে ক্বুর'আন ও হাদীসের দলিল চাই না তাই ওই ভন্ডরা তা দিতে বাধ্য হন না। ফলে তারা নিজেরা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল পথে চলে এবং জনগণকে ভুল পথে চালিত করে। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ ইসলামের কোন আলেম অবশিষ্ট থাকবে না তখন লোকেরা মূর্খদের কে নেতা বানিয়ে নেবে তাদের কিছু জিজ্ঞেস করা হলে, না জানলেও ফতোয়া প্রদান করবে। ফলে তারা নিজেরা পথভ্রষ্ট হবে, এবং অন্যকে কষ্ট করবে।
(সহীহ বুখারী হাদীস নাম্বার ১০০, সহীহ মুসলিম হাদীস নাম্বার ২৬৭৩)
আর ওই উপাধিধারী মুক্তি দের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা সঠিক বিষয়টা জানলেও নিজেদের বানোয়াট মাযহাবী সেগুলোর মান মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে তারা সঠিক বিষয়টা মানুষকে বলে না বরং তা মানুষের নিকট গোপন রাখে ওই ধরনের ভন্ড পীর পূজারী মিথ্যাবাদী সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেনঃ
إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَآ أَنزَلَ اللَّهُ مِنَ الْكِتٰبِ وَيَشْتَرُونَ بِهِۦ ثَمَنًا قَلِيلًا ۙ أُولٰٓئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِى بُطُونِهِمْ إِلَّا النَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيٰمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
নিশ্চয় যারা গোপন করে যে কিতাব আল্লাহ নাযিল করেছেন এবং এর বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, তারা শুধু আগুনই তাদের উদরে পুরে। আর আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
(সূরা বাকারা ১৭৪ নম্বর আয়াত)
আর বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি তার জানা ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়েও মানুষের কাছে তা গোপন করে রাখে বিভীষিকাময় কিয়ামতের দিন তার মুখে আগুনে লাগাম পরিয়ে দেওয়া হবে।
(আহমদ, আবু দাউদ-২২৩)
যে ব্যক্তির ক্বুর'আন ও হাদীসের জ্ঞান আছে তাকে দ্বীন ইসলামের মাসআলা-মাসায়েল জিজ্ঞেস করুন দলিল সহকারে। যদি জিজ্ঞাসিত বিষয়টির জ্ঞান থাকে তাহলে সে ওই বিষয়টির ফতওয়া দিতে পারবে এতে কোনো অসুবিধা নেই।

