sahri & iftar time

নামায কি জান্নাতের চাবি?

 

Namaz ki Jannater Chabi?

তাহক্বীক্বঃ মুসলেহুদ্দীন মাযহারী

সমাজে বহুল প্রচলিত হাদীস যে, নামায জান্নাতের চাবি। আসুন আজকে আপনাদের নামায জান্নাতের চাবি এটা তাহক্বীক্ব উপস্থাপন করছি।

আসুন হাদীস দেখা যাক।
হাদীসটি হলো:-

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ زَنْجَوَيْهِ الْبَغْدَادِيُّ وَغَيْرُ وَاحِدٍ
قَالَ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ قَرْمٍ، عَنْ أَبِي يَحْيَى الْقَتَّاتِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، رضى الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِفْتَاحُ الْجَنَّةِ الصَّلاَةُ وَمِفْتَاحُ الصَّلاَةِ الْوُضُوءُ .

৪। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাতের চাবি হচ্ছে নামায, আর নামাযের চাবি হচ্ছে ওযু (সুনানুত তিরমিযী হাদীস নং ৪ মুসনাদে আহমাদ হাদীস নং ১৪৬৬২)।

তাহক্বীক্বঃ এই হাদীসের প্রথম অংশ যঈফ অর্থাৎ

مفتاح الجنة الصلاة

নামায জান্নাতের চাবি।

(দ্বিতীয় অংশ হাসান। কারণ সুনান তিরমিযীর হাদীস নং ৩ এর সমার্থক। দ্বিতীয় অংশটি হলো :-
مفتاح الصلاة الوضوء
অর্থাৎ:- অযু হলো নামাযের চাবি )।

আজকের তাহক্বীক্বে প্রথম অংশ নিয়ে আমরা আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

অর্থাৎ" নামায জান্নাতের চাবি"

এই অংশটি যঈফ।

কারণ এই হাদীসের সানাদে سليمان بن قرم "সুলাইমান বিন ক্বারম" যঈফ রাবী।

১) ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন রহঃ বলেন,সে কিছুই নয় ( আল কামিল ফী যুআফাইর রিজাল ৪/২৩৮ রাবী নং ৭৩৫ তারীখ ইবনু মাঈন ১/১২৮ রাবী নং ৪০৫ আল মাজরুহীন লিইবনি হিব্বান ১/৩৩২ রাবী নং ৪১৪)।

২) ইমাম নাসাঈ রহঃ বলেন,সে শক্তিশালী নয়। ইবনু হিব্বান রহঃ বলেন,সে রাফিযী ছিল ( আয যুআফা অল মাতরূকূন লিইবনিল জাওযী ২/২৩ রাবী নং ১৫৩৯)।

৩) ইমাম নাসাঈ রহঃ বলেন,সে শক্তিশালী নয় ( আয যুআফা অল মাতরূকূন লিন নাসাঈ ১/৪৯ রাবী নং ২৫১)।

৪) আবু যুরআহ রহঃ বলেন,সে কিছুই নয় ( আল জারহু অত তা'দীল লিইবনি আবী হাতিম ৪/১৩৭)।

৫) ইবনু হাজার আসক্বালানী রহঃ বলেন, স্মৃতি শক্তি ভ্রম হয়ে গিয়েছিল এবং শিয়া ছিল ( তাক্বরীবুত তাহযীব রাবী নং ২৮৬২)।

এই রাবী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন:-

( সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ১/৩৩২ আল মু'জামুস সাগীর লিত ত্ববারী ১/২১৯ রাবী নং ১৫৮৩)।

আরও একজন রাবী আবূ ইয়াহইয়া আল ক্বাত্তাতকেউ অনেক মুহাদ্দিস যঈফ বলেছেন।

ইমাম নাসাঈ রহঃ বলেন,সে শক্তিশালী নয়( আয যুআফা অল মাতরূকূন লিন নাসাঈ ১/২৫৮)।

এই হাদীসটি যে সমস্ত মুহাদ্দিসীনে কিরাম যঈফ বলেছেন:-

১) আল্লামাহ নাসিরুদ্দীন আলবানী রহঃ যঈফ বলেছেন ( যঈফুত তারগীব অত তারহীব হা/২১২ যঈফুল জামে হাদীস নং ৫২৬৫ সহীহ সুনান তিরমিযী হাদীস নং ৪ মিশকাত হাদীস নং ২৯৪)।

২) ইবনুল খার্রাত ( মৃত ৫৮১ হিজরী) তাহক্বীক্ব আবূ আব্দিল্লাহ হুসাইন বিন উক্বাশাহ যঈফ বলেছেন ( আল আহকামুশ শারইয়্যাতিল কুবরা ১/৪১৮)।

৩) শায়খ মুহাক্বিক্ব ইব্রাহীম শামসুদ্দীন যঈফ বলেছেন ( আত তারগীব অত তারহীব ১/১৪৯ হাদীস নং ৫৫০)।

৪) শায়খ শুআইব আল আরনাউত রহঃ যঈফ বলেছেন ( মুসনাদে আহমাদ হাদীস নং ১৪৬৬২)।

৫) আল্লামাহ উক্বায়লী আয যুআফাউল কাবীর ২/১৩৬ উল্লেখ করেছেন)।

৬) আবূ আহমাদ বিন আদী আল জুরজানী (মৃত ৩৬৫ হিঃ) তিনি উল্লেখ করেছেন আল কামিল ফী যুআফাইর রিজাল ৪/২৪১)।

৭) হাফিয যুবাইর আলী যাঈ রহঃ যঈফ বলেছেন ( আনওয়ারুস সহীফাহ ফিল আহাদীসিয যঈফাহ হা/৪)।

এছাড়াও শায়খ আব্দুল কারীম আল খুযাইর রহঃ সুনান তিরমিযীর ৪ নং হাদীসের তাহ্ক্বীক্বে যঈফ বলেছেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url